নকল কসমেটিকসে বাজার সয়লাব

 ঢাকার একটি বড় শপিং-সেন্টারে, নামি এক দোকান থেকে প্রসাধনী কিনছেন ফারিয়া।

প্রতিদিনের মাখার সাবান, লোশন, ক্রিম, শ্যাম্পু তিনি একবারেই কিনে নেন। আসল প্রসাধনী কেনার জন্য শতভাগ নিশ্চিত থাকতেই তিনি এই এই নামকরা দোকান থেকে সবসময় কেনেন।

ফারিয়া বলছিলেন “এখান থেকে কিনি কারণ বাইরের জিনিস থাকে,দেশের কিছু কসমেটিকস ব্যবহার করি আমি। এদের কাছে ভেজাল জিনিস থাকবে না মনে হয়”।

শপিং সেন্টারের কসমেটিকসের অন্য দোকানগুলোতে সমান ভিড়। দেশে তৈরি পণ্যের পাশাপাশি এসব দোকানে ঠাসা রয়েছে বিদেশি নামকরা ব্রান্ডের বিভিন্ন ধরণের পণ্য। কথা হচ্ছিল তেমনি একটি দোকানের মালিকের সাথে। তিনি বলছিলেন এই

বিদেশি গুলা ইমপোর্ট করি, দেশি গুলো কোম্পানি দিয়ে যায়। এছাড়া সিল থাকে, ডেট থাকে সেটা দেখে বুঝি”। তবে এর মধ্যে কি উপাদান আছে, সেগুলো আসল না নকল সেটা সম্পর্কে একদমই ধারণা নেই তার।

ঢাকার চকবাজারে “কসমেটিকস মার্কেটের” খোজ করতেই সবাই চিনিয়ে দিল।

এখানে রাস্তার দুধারী এবং দুই-তিন তলা মার্কেটে সারি সারি কসমেটিকসের দোকান।

মূলত এই দোকানগুলো থেকে পাইকারি হারে বিক্রি হয় পণ্য। এখানে দেশি, বিদেশি পণ্য যেমন পাওয়া যায় তেমনি পাওয়া যায় তাদের ভাষায় “২ নম্বর কসমেটিকস”।

তবে এই ২ নম্বরের মধ্যে দেশি-বিদেশি নামকরা ব্রান্ডের পণ্যও কিন্তু রয়েছে।

পুলিশের অভিযানের ভয়ে প্রথমেই কেও ২ নম্বর পণ্যের খোজ দিতে চায় না। ঘণ্টা দুয়েক ঐ এলাকায় ঘুরে আমার কথা হল একজনের সাথে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলছিলেন ২ নম্বর কসমেটিকস সম্পর্কে।

তিনি বলছিলেন “পন্ডস পাউডার, সানসিল্ক শ্যাম্পু, ডাভ, হেড এন্ড শোল্ডার, হিমালয়া ফেসওয়াস, তেলের মধ্যে ভাটিকা, কুমারিকা, আমলা এসব আছে। এছাড়া আপনার যা দরকার লিস্ট দিলে নিয়ে আসা যাবে। এগুলো সব ২ নম্বর। চায়না থেকে কন্টেইনার আসে আমরা এখানে তৈরি করি। মার্কেটে আপনি যে দামে কিনবেন তার অর্ধেক দামে এখানে ঐগুলাই পাওয়া যায়। এগুলা মাখলে কোন ইফেক্ট নেই। ভাল-খারাপ কিছুই হয় না। যশোর, চিটাগাং, রাজশাহী, খুলনা, কুষ্টিয়া, হবিগঞ্জ সব জায়গায় আমাদের কাস্টমার আছে। তারা ফোন করলে আমরা পরিবহনে মাল পাঠিয়ে দি”।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে দেশে যে পরিমাণ কসমেটিকস অর্থাৎ স্নো,ক্রিম, শ্যাম্পু, সাবান, লোশন, আফটার-শেভ লোশন, পারফিউম এসব চাহিদা রয়েছে তার ১৫ শতাংশ পূরণ হচ্ছে দেশিয় কোম্পানির উৎপাদনে।

আর ১৫ শতাংশ -আমদানি করা বিদেশি পণ্য। বাকি ৭০ শতাংশ কসমেটিকস নকল ও ক্ষতিকারক উপাদান দিয়ে তৈরি হচ্ছে ।


গবেষণায় বলছে পুরান ঢাকার চকবাজার, জিঞ্জিরা, ইসলামপুর এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলা শহরে এই ভেজাল কসমেটিকস তৈরির কারখানা গুলো গড়ে উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক আবু সারা শামসুর রউফ বলছেন ভেজাল করার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সুগন্ধিটি ছাড়া বাকিটা ক্ষতিকারক উপাদানে তৈরি হয়। তিনি বলছিলেন “যে পরিমাণ ফরমালডিহাইড থাকলে ক্ষতি হবে না, সেটা অনেক বেশি পরিমাণে হচ্ছে, প্রিজারভেটিভ এবং এন্টি অক্সিডেন্ট ব্যবহারের মাত্রা থাকে ভেরি ভেরি হাই। এর প্রথম উপসর্গ হবে রোগীর এলার্জি দেখা দেবে।

তবে দেশিয় যেসব উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাদের পণ্যে এসব উপাদান ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সঠিক নিয়ম মানা হয় না বলেও তিনি জানান। একই সাথে ম. রউফ উল্লেখ করেন তাদের পণ্যগুলোও নকল হচ্ছে।

Comments